এই ভিটামিনটির অভাবে আপনার অনেক ক্ষতি হতে পারে, সাবধান হন

|

ভিটামিন খেয়ে আমরা শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারি। তবে আমরা কখনো এটা জানার চেষ্টা করি না যে, কোন ভিটামিনের অভাবে শরীরে কোন রোগ হয়। চিকিৎসকদের মতে ভিটামিনের অভাবে শরীরে অনেক বড় ধরণের রোগ হয়। ভিটামিনের ঘাটতির কারণে আমাদের শরীরে কোন রোগ হয় এবং তা থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায় জেনে নিন।


১. ভিটামিন-এ: ভিটামিন-এ দুই ভাবে পাওয়া যায়। যেমন রেটিনল এবং ক্যারোটিন।ভিটামিন এ চোখের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-এ এর অভাবে বেশিরভাগ চোখের রোগ হয়। যেমন চোখের সাদা অংশে দাগ দেখা দেয়, বমি বমি ভাব হয় ইত্যাদি। ভিটামিন এ রক্তের ক্যালসিয়ামের স্তর বজায় রাখতে সহায়তা করে। হাড়কে মজবুত করে।
উৎস:শরীরে ভিটামিন-এ পূরণের জন্য – গাজর, পনির, দুধ, টমেটো, সবুজ শাকসবজি, হলুদ ফল খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায় যা এটি শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে।


২. ভিটামিন-বি: ভিটামিন বি আমাদের জিন, ডিএনএ গঠন করতে সহায়তা করে। এর অনেকগুলি কমপ্লেক্স রয়েছে যেমন, বি ১, বি ২, বি ৩, বি ৫, বি ৬, বি ৭ এবং বি ১২। এটি কিছু উপাদান তৈরিতে সহায়তা করে। লাল রক্তকণিকাও থেকে তৈরি হয়। এর ঘাটতির কারণে বেরি, চর্মরোগ, রক্তাল্পতাজনিত অনেক বিপজ্জনক রোগ হতে পারে। শরীরের ওজন কমে যায়। এই ভিটামিন সবচেয়ে মাংসে পাওয়া যায়।
উৎস: ভিটামিন বি বেশিরভাগ মাংস, ডিম ইত্যাদির মধ্যে পাওয়া যায়। দুধ এবং এটি থেকে তৈরি পণ্য, আলু, গাজর এবং মূলাও প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

৩. ভিটামিন-সি: ভিটামিন সি শরীরের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে। কোষগুলিতে শক্তি প্রেরণ করে। ভিটামিন সি মানবদেহের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাসকরবিক অ্যাসিড সৃষ্টি করে।ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যা শরীরে ক্লান্তি, পেশীগুলির দুর্বলতা, জোড় এবং পেশীগুলিতে ব্যথা, মাড়ির রক্তপাত এবং পায়ে ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করে। এটি রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তিও হারিয়ে ফেলে, যার ফলে সহজে অনেক রোগে আক্ৰান্ত হয়ে পড়ে।
উৎস: ভিটামিন সি টকযুক্ত রসালো ফল যেমন আমলা, কমলা, লেবু, বরই, কাঁঠাল, আঙুর, টমেটো, পেয়ারা, আপেল, দুধ এবং পালং শাক ভিটামিন সি এর ভাল উৎস। এ ছাড়া ডাউলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এর উৎস হল সবুজ শাকসবজি, ছোলা এবং ফল।

৪. ভিটামিন-ডি: ভিটামিন ডি এর সর্বোত্তম উৎস হল সূর্যের রশ্মি। আমাদের দেহের ত্বক যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে, তখন এই রশ্মি ত্বকে শুষে নেয় এবং ভিটামিন ডি তৈরি করে। যদি সপ্তাহে দুবার পনেরো মিনিট করে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শরীরের খোলা ত্বকে পড়ে তবে শরীরের ভিটামিন ডি আবার পূরণ হয়ে যায়। এর অভাব হাড়কে দুর্বল করে তোলে। হাত ও পায়ের হাড়গুলিও আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। স্থূলত্ব বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা হ্রাস পায়, যারা স্থূলত্বের মতো রোগে ভোগেন, তাদের ভিটামিন ডি এর ঘাটতি প্রয়োজন বাহ্রাস করা উচিত।
উৎস: রৌদ্রকে ভিটামিন ডি এর সেরা উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এগুলি ছাড়াও দুধ, ডিম, মুরগী, সয়াবিন এবং মাছগুলিতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

৫. ভিটামিন-ই: ভিটামিন-ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে, শরীরকে অ্যালার্জি থেকে রক্ষা করতে ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন-ই ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন যেটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবেও কাজ করে। এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।
উৎস: ভিটামিন-ই ডিম, শুকনো ফল, বাদাম এবং আখরোট, সূর্যমুখী বীজ, সবুজ শাকসবজি , মিষ্টি আলু, সরিষা, এছাড়াও উদ্ভিজ্জ তেল, গম, ছোলা, বার্লি, খেজুরে পাওয়া যায়।








Leave a reply