আমিষে ভাইরাস? হয়ে যান নিরামিষভোজী

|

আহারে উদরপূর্তি কিংবা খাবারে নিত্যনতুন বিলাসিতা আর রকমারি সব পদের জন্য মনুষ্যজাতি মাংসের বিকল্প হিসেবে কিছুই ভাবতে পারে না। অন্যকিছুরও রকমারি পদ হয়, কিন্তু মাংসের মতো হয় না। এজন্যই মাংসের এতো কদর আমাদের কাছে। কিন্তু বেশি মাংস খাওয়া যে ভালো না, সেটাও আমাদের অজানা নয়।

বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের মাথায় নতুন এক চিন্তা ঘুরছে। বিষয়টি আসলেই চিন্তার। গত কয়েক বছরে আমাদের বিশ্বে ভাইরাসজনিত রোগবালাই, সেই রোগে মৃত্যু এবং আতঙ্কের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই যেমন যদি বার্ড ফ্লুয়ের কথা যদি ধরি। এই রোগ ছড়িয়েছিল মুরগী এবং পাখির মাংস খাওয়ার মাধ্যমে। এই রোগ বেশ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এরপর এসেছিল অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের প্রকোপ। এই রোগ ছড়ায় গবাদি পশু পালন এবং মাংস খাওয়ার মাধ্যমে। সেই সময়ে এবং এখন পর্যন্ত এই রোগটি আতঙ্ক হয়ে বিরাজ করছে। ঠিক তেমনি শূকর থেকে ছড়িয়েছিল সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস।

সর্বশেষ আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাপ, ব্যাঙ বা সামুদ্রিক প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাই বোধহয় আমিষ ছেড়ে নিরামিষ খাওয়ার বিষয়ে এতো জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এত প্রাণীবাহিত ভাইরাস, রোগবালাইয়ের কবলে প্রতিনিয়ত পড়ার চেয়ে নিরামিষভোজী হয়ে যাওয়াকে অনেকেই সমীচীন মনে করছেন। তাই বলে একদম মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। মাংস খেতে হবে সাবধানে। আর নিরামিষের প্রতি জোর দিতে হবে।। এতে আপনার শরীর ফিট থাকছে, রোগবালাই, ভাইরাস থেকে আপনি অনেকটাই দূরে নিশ্চিন্তে থাকবেন।

কেন খাবেন নিরামিষ

কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়

কোলেস্টেরলের প্রায় সবটাই তৈরি হয় প্রাণীজ ফ্যাট থেকে, কারণ উদ্ভিজ ফ্যাটে কোনো রকম কোলেস্টেরল থাকে না। যদিও কিছু কোলেস্টেরল মানুষের কোষের জন্য প্রয়োজনীয়, তবুও শুধুমাত্র নিরামিষ খাদ্যের উপর বেঁচে থাকলে শরীরের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না। উপরন্তু নিরামিষ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

হজমে সহায়তা করে

ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে তন্তু থাকে, এই উদ্ভিজ তন্তু আমাদের পরিপাকক্রিয়ায় অনেক সহায়ক করে। শরীরের বিপাকক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্ভিজ তন্তু হলো উৎকৃষ্ট উপাদান। এছাড়াও এই সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা আমাদের দেহে পানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এর ফলে হজমের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

বিপাকীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি

নিরামিষ খাবার খুব সহজপাচ্য এবং এটা আমাদের বিপাক ক্রিয়াকে সর্বোত্তমভাবে বজায় রাখে। নিরামিষভোজী মানুষের ক্ষেত্রে রেস্টিং মেটাবোলিজম রেটও অনেক বেশি। এই নিরামিষ খাদ্য যে শুধুমাত্র সহজপাচ্য নয়, এটি শারীরিক ফ্যাট বিপাকেও যথেষ্ট সাহায়তা করে।

স্থূলত্ব ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

নিরামিষভোজী মানুষেরা খুব পরিমিত মাত্রায় নিজেদের পছন্দসই খাদ্য খেয়ে থাকেন, তারা কখনোই বেশি পরিমাণে বা আবেগবশতঃ অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন না, এসব কারণে নিরামিষভোজী মানুষের দেহে স্থূলত্ব দেখা যায় না। বেলজিয়ামের পেডিয়াট্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মনে করেন নিরামিষ খাদ্য মানুষের ক্ষেত্রে হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়।

ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমায়

আমিষভোজী মানুষেরা প্রায়শই রক্তে শর্করার সমস্যায় ভোগেন, কখনও কখনও খাদ্যগ্রহণের পরে তা উচ্চপর্যায়ে চলে যায়। এসব আমিষাশী মানুষেরা যদি খাবারে নিরামিষ রাখেন তাহলে তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে, এর প্রধান কারণ হলো সুষম নিরামিষ খাদ্য মানুষের শরীরে যেমন পুষ্টি যোগায় তেমনি রক্তে শর্করা ও ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখে।

এজন্যই আপনার আমার সবার জন্য মাংস এড়িয়ে নিরামিষ খাওয়াটাই ভালো।








Leave a reply