আপনার ত্বকে লালচে দানার মত এসব কি এবং কেন হয়?

|

একেক জনের ত্বকের ধরণ একেক রকম। কিন্তু ইদানিং ত্বকের লালচে ভাব খুব সাধারণ একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি কি ত্বকের এই লালচে ভাবের জন্য চিন্তিত?আসুন এ সম্পর্কে আমরা বিখ্যাত ভারতীয় ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. সিরীশা সিং এর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিই।

ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালা করা নিয়ন্ত্রণের প্রধান বিষয় হলো সমস্যা চিহ্নিত করা। ত্বক সাধারণত লাল হয় ইনফেকশন, অ্যালার্জি অথবা ত্বকে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে। খুবই কম সময় এটা গুরুতর কোনো কারণে হয়ে থাকে, তাই এটা নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই।

এই ইনফেকশনগুলো ফাংগাল বা ব্যাকটেরিয়াল এবং কদাচিৎ ভাইরাসঘটিত হয়। এগুলো সহজেই শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসাও সহজ এবং ফলাফল দুর্দান্ত। কারণ এটি পুরোপুরি চলে যায়। আর যদি একবার কারো এই সমস্যা চলে যায় তাহলে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

যদি ফুসকুরিগুলো অ্যালার্জির কারণে হয়, তবে এটা ফিরে আসতে পারে এবং এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হয়। সব ধরণের অ্যালার্জির প্রকাশের ধরণ এক এবং বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এটা শনাক্ত করা অসম্ভব। তাই ভুক্তভোগীর অস্বস্তি কমানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এর জন্য যেসব নিয়ম পালন করা উচিত তা হলো-ত্বককে সবসময় আর্দ্র ও ভেজা রাখতে হবে। মৃদু ক্ষারীয় ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে ত্বকের জ্বালাভাব কমানোর জন্য। বারবার মশ্চেরাইজার ব্যবহার করতে হবে ত্বককে আদ্র রাখার জন্য। পরিমিত তরল পান করাও জরুরি।অস্বস্তিকর পোশাক যেমন পশমি, উল অথবা সিন্থেটিক কাপড় পরিহার করতে হবে।পোষা প্রাণী যেমন কুকুর ও বিড়াল থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ অনেকের প্রাণীর প্রোটিনে অ্যালার্জি হয়।ত্বকের চুলকানি দূর করতে প্রচুর আলো বাতাসযুক্ত ঠাণ্ডা ঘরে অবস্থান করুন।অ্যালার্জি হয় এমন জিনিসগুলো শনাক্ত করা (যদিও অনেক সময় সেটা অসম্ভব) ও সেগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত।

খাদ্যে যে অ্যালার্জি থাকে তা বিশেষ ধরনের অ্যালার্জি যার নাম উরটিকারিয়া। এটি অনেক দীর্ঘায়িত হয় ও চরম অস্বস্তির কারণ হয়। আপনাকে এগুলো শনাক্ত করে সেগুলো পরিহার করতে হবে।নির্দিষ্ট কিছু অ্যালার্জির জন্য এন্টি অ্যালার্জি ট্যাবলেট উপকারী। এগুলো কোনো ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে খাওয়া উচিত।স্টেরয়েড মলম অথবা ট্যাবলেট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে অবশ্যই ব্যবহারের পূর্বে ত্বক বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত।ত্বকের অন্যান্য সমস্যা যেমন অভ্যন্তরীণ শারীরিক সমস্যা, ঔষধের জন্য ফুসকুরি ইত্যাদির জন্যও চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক।








Leave a reply