৭ ভাষায় ববিতার উইকিপিডিয়া

|

বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা। রেকর্ড গড়েছেন অভিনয়ে, এবার গুণী এই শিল্পী ভিন্ন একটি রেকর্ড গড়লেন। উইকিপিডিয়ায় সাতটি ভাষায় তার তথ্য উঠে এসেছে। যা এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের বেলায় বিরল। সাধারণত উইকিপিডিয়ায় একটি বা দুইটি ভাষাতেই তারকার তথ্য দেখা যায়।কিন্তু ববিতার ক্ষেত্রে যুক্ত হলো বাংলা, ইংরেজি, আরবি, কোরীয়, তামিল, ওড়ীয় ও পাঞ্জাবি ভাষায় অনলাইনভিওিক এনসাইক্লোপিডিয়া ‘উইকিপিডিয়া’।

মোট সাতটি ভাষায় ববিতাকে নিয়ে উইকিপিডিয়া তথ্য হালনাগাদ করেছে। এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘এটা আমার জন্য বিরাট পাওয়া। অন্য অনেক পুরস্কারের মতোই এটি আমার কাছে মূল্যবান। ভীষণ খুশি লাগছে আমার। তারা আমার ওপর রিসার্চ করেই কাজটি করেছে। নতুন জেনারেশনের শিল্পীরাও এটা দেখে অনুপ্রাণিত হবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ভিনদেশী মানুষরা এখন থেকে আমার সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

প্রখ্যাত নির্মাতা জহির রায়হানের হাত ধরে সিনেমায় আগমন ঘটে ববিতার। অভিনয় ক্যারিয়ারে ববিতা সাড়ে তিন’শ এর বেশী সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা। ভারতীয় বিখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত সিনেমায় অভিনয় করার পর থেকেই তার নামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকার তকমাটি জুটে যায়। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।

ফরিদা আক্তার পপি[১] (ববিতা নামে পরিচিত; জন্ম: ৩০ জুলাই, ১৯৫৩[২]) বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং প্রযোজক।[৩] তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ৭০-র দশকের সেরা অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ২৩তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে গোল্ডেন বীয়ার জয়ী সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। ববিতা ৩৫০ এর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন।[৪] এছাড়া ১৯৭৬[৪], ১৯৭৭,[৪] ১৯৮৫ সালে আরেকবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী[৪], ১৯৯৬ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক, ২০০২ ও ২০১১ সালে পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী। এছাড়া ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রাথমিক জীবন

রিয়াজ, সুচন্দা, ববিতা, তিনা ও চম্পা কক্সবাজারে ২০১৪ সালে
ফরিদা আক্তার পপি ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্ম নেন। তার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা জাহান আরা বেগম ছিলেন একজন চিকিৎসক। বাবার চাকরি সূত্রে তারা তখন বাগেরহাটে থাকতেন। তবে তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়। শৈশব এবং কৈশোরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।[৬][৭] এছাড়াও অভিনেতা রিয়াজ তার চাচাত ভাই। চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান তার ভগ্নিপতি। ববিতার পরিবার একসময় বাগেরহাট থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়াতে চলে আসে। তার মা ডাক্তার থাকায়, ববিতা চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে। ববিতার একমাত্র ছেলে অনীক কানাডায় পড়াশোনা করেন।








Leave a reply