১০ বছর ধরে লুকিয়েছেন অসুখের কথা

|

চাননি, নিজের এই অসুখের খবরটি অন্য কেউ জানুক। কিন্তু ১০ বছর পর তা নিজে থেকেই জানিয়ে দিলেন বলিউড অভিনেতা অনিল কাপুর। নিজের ইনস্টাগ্রামে স্কিপিংয়ের ছবি পোস্ট করে অনিল কাপুর লেখেন, ১০ বছর ধরে তিনি অ্যাকিলিস টেন্ডন রোগে ভুগছেন।
জানা গেছে, এই অসুখের চিকিৎসার জন্য অনিল কাপুর বিশ্বের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে গেছেন। সবাই তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু অনিল কাপুর তা মোটেও চাননি। তবে ডা. মুলার নামের একজন চিকিৎসক তাঁকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা করান।

১০ বছর ধরে শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন অসুখ। পরিবারের বাইরে কাউকে জানতে দেননি। অনিল কাপুর লেখেন, ডা. মুলার আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। খুঁড়িয়ে হাঁটা থেকে এখন আমি দৌড়ানো, এমনকি স্কিপিং পর্যন্ত করতে পারছি। অস্ত্রোপচার ছাড়াই ওষুধ ও নিয়ম করে শরীরচর্চার মাধ্যমে অস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছি।’

অনিল কাপুর জানান, অ্যাকিলিস টেন্ডন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন হাঁটেন তিনি। ব্যায়ামের মাধ্যমে ভালো থাকার চেষ্টা করছেন। করোনাকালেও মুম্বাইয়ের পার্কে নিয়মিত হাঁটতে দেখা গেছে তাঁকে। স্কিপিংও করেন প্রতিদিন। এক দিনও বাদ দেন না নিজের এই শরীরচর্চার অভ্যাস।
অ্যাকিলিস টেন্ডনে পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশের টিস্যু ক্ষয় হতে থাকে। রোগের প্রভাবে মানুষ হাঁটা-চলার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলতে পারে। এতে এক জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে যায় না। রোগের পরিস্থিতি বুঝে আবার অস্ত্রোপচারের পরামর্শও দেন চিকিৎসকেরা। বিখ্যাত টেনিস খেলোয়াড় সেরেনা উইলিয়ামসও তাঁর অ্যাকিলিসের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমে। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে আসেন।

নায়ক’, ‘বেটা’ ‘ মিস্টার ইন্ডিয়া’—বলিউডের এই সিনেমাগুলোর নাম মনে পড়লেই অনিল কাপুরের মুখটা চোখের সামনে ভাসে। তাঁর এই সমস্যার কথা শুনে সহকর্মী শিল্পা শেঠি ও ফারাহ খান ইনস্টাগ্রামে মন্তব্য করে সাহস জুগিয়েছেন। এদিকে গত বছরের শুরুর দিকে ‘ক্যালসিফিকেশন অব শোল্ডার’ সমস্যায় ভোগার কথাও জানিয়েছিলেন অনিল কাপুর। স্ট্যান্টের নানা কসরত ও মারপিটের দৃশ্যে অভিনয় এবং একের পর এক ছবির চাপে নাকি এই অসুখে ধরেছিল তাঁকে। সে সময় তিনি জার্মানি যাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। জার্মানির তারকা ক্রীড়া চিকিৎসক ড. হানস উলহেম মুলার উলফার্ট তাঁর চিকিৎসা করাবেন বলেও জানিয়েছিলেন। ড. হানস জার্মানির জাতীয় ফুটবল দলসহ সব তারকা খেলোয়াড়কে চিকিৎসা দেন।








Leave a reply