মুরালিধরনের অনুরোধেই সরে গেলেন বিজয়

|

দুজনের ছবি পাশাপাশি রাখলে মনে হতো, তাঁরা পরস্পর সহোদর। আর ছবির পোস্টার দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, তিনি মুত্তিয়া মুরালিধরন নাকি বিজয় সেথুপাতি? বিজয় সেথুপাতি একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘এমন ঐতিহাসিক এক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি।’ মুত্তিয়া মুরালিধরন, বিজয় সেথুপাতি দুজনেই ফেসবুকে তাঁদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ছবির ঘোষণা দিয়েছেন। এত কিছুর পর নেতিবাচক খবর, ছবিটি করছেন না বিজয় সেথুপাতি। শুধু তা–ই নয়, ছবিটি না করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেছেন স্বয়ং মুত্তিয়া মুরালিধরন।

হ্যাঁ, সত্যি শুনেছেন। শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটারের জীবনীচিত্র থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিনেতা বিজয় সেথুপাতি। যদিও সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল মুত্তিয়া মুরালিধরনের বায়োপিকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন বিজয়। এমনকি জীবনীভিত্তিক ‘৮০০’ ছবিটির ফার্স্টলুক প্রকাশিত হয়েছে। পোস্টারটিতে মুরালিধরনের শৈশব থেকে শুরু করে পুরো ক্রিকেটযাত্রাকে তুলে ধরা হয়েছে।

এরপর থেকেই নতুন বিতর্ক দানা বাধে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের ডাক দেওয়া হয় বিজয় সেথুপাতিকে। শ্রীলঙ্কান তামিল মুরালিধরনের চরিত্রে কীভাবে অভিনয় করতে পারেন বিজয়?

এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন কেউ কেউ। কারণ, মুরালিধরনকে মূলত শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের সমর্থক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। যাঁর শাসনকালে ৩০ বছর ধরে দ্বীপরাষ্ট্রে মালায়াগা তামিল বা সিংহলিজ হিল কান্ট্রি তামিলের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে, এমনকি নির্বিচারে হয়েছে গণহত্যাও। ১৯ শতকে ভারত থেকে চা চাষের কারণে শ্রীলঙ্কার বুকে পা রেখেছিল এই সব তামিল। ভারতীয় তামিলরা বিজয়ের সিদ্ধান্তে বিরক্ত হন, তা দেখেই মুরালিধরন নিজে বিজয় সেথুপাতিকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৮০০ উইকেটের মালিক বলেন, তাঁর জীবনী পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে গেলে বিরাট ক্ষতি হতে পারে বিজয় সেথুপাতির ক্যারিয়ারে। তাই তিনি কোনোভাবেই চান না বিজয় এই ঝুঁকিটা নিক। মুরালিধরনের সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি টুইটারে শেয়ার করে সোমবার বিকেলে অভিনেতা লিখেছেন—‘ধন্যবাদ এবং বিদায়’।বেদনাহত পুরো ঘটনা নিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। লিখেছেন—‘ঘটনাটা ২০১৯ সালের। সেবার আমি বলেছিলাম আমার ক্যারিয়ারের দিক থেকে ২০০৯ সালটি শ্রেষ্ঠ বছর। আর সেটাকেই বিকৃত করে লেখা হলো, যেহেতু ওই সময় তামিলদের গণহত্যা হয়েছে, তাই আমি ওই সালকে শ্রেষ্ঠ বলেছি। মোটেও না।

আমার কাছে সিংহলিজ হিল কান্ট্রি তামিল ও ইলম তামিলের কোনো পার্থক্য নেই। গণহত্যার সময় আমি নিজে ভয়ে ভয়ে থাকতাম আমার পরিচিতরা স্কুল, কলেজ, অফিস থেকে ঠিকভাবে বাড়ি ফিরবে তো? আমি কখন গণহত্যাকে সমর্থন করি না। আমি নিজে ইলম তামিলদের আমার নিজের সম্প্রদায়ের থেকে বেশি সহায়তা করেছি। যদিও আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। তা–ও পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করে। ’

এসব কথা লিখে মুত্তিয়া মুরালিধরন তাঁর সামাজিক কাজ ও চ্যারিটি কাজের লিস্ট প্রকাশ করেন। মুরালিধরন জানিয়েছেন, শিগগিরই প্রযোজকেরা বিজয়ের পরিবর্তে অন্য কাউকে খুঁজে নেবেন, তবে সেই কাজ নিঃসন্দেহে সহজ হবে না।

‘৮০০’ ছবিটি নির্মাণ করবেন এম এস শ্রীপাথি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার ৮০০ এবং সেটি মুরালিধরনের হওয়ায় ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘৮০০’।

ছবিটির দৃশ্যধারণ করা হবে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও আরও কয়েকটি দেশে। ছবিটির ঘোষণা যখন আসে, তখন সেথুপাতির হাতে মোট ছয়টি সিনেমা ছিল।প্রসঙ্গত, ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় ধুম পড়েছে বায়োপিক নির্মাণের। ক্রিকেটারদের নিয়েই তাঁরা অনেক সিনেমা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে এম এস ধোনি, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছে। মুক্তির জন্য প্রস্তুত ক্রিকেট নিয়ে সিনেমা ‘৮৩’। কপিল দেবকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। এবার মুত্তিয়া মুরালিধরনকে নিয়ে সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে।








Leave a reply