‘চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার অনেক সময়ই মিল হয় না’

|

মৌসুমী হামিদ। অভিনেত্রী। মাছরাঙা টেলিভিশনে আজ রাতে প্রচার হবে তার অভিনীত টেলিছবি ‘অভিমানী’। সুব্রত সঞ্জীবের পরিচালনায় এ টেলিছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-
‘অভিমানী’ টেলিছবিতে যে মায়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে তা কতটা সময়োপযোগী?
সমকালীন জীবনধারার গল্প না হলে অভিনয় করতাম না। এতে যে বৃদ্ধ মায়ের গল্প উঠে এসেছে, এমন পরিবার চোখে পড়ে। এ টেলিছবিটি যেন ব্যস্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি।
টেলিছবির চরিত্র নিয়েও কি একই কথা বলা যায়?
‘অভিমানী’ টেলিছবিতে প্রতিটি চরিত্রে চেনাজানা মানুষের ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে। বৃদ্ধ মা, পড়াশোনা শেষ করা বেকার ছোটো ভাই রাজীব, স্ত্রী অনু ও একমাত্র সন্তান আয়মানকে নিয়ে সাংবাদিক সাহেদ শফিকের সংসার। এই ছোট্ট সংসারে সব সদস্য ব্যস্ত। আয়মানের লেখাপড়া,পরিচর্যা ও সংসারের কাজ নিয়ে অনুর ব্যস্ত সময় কাটে। রাজীব ফ্রেন্ডস আড্ডা, গার্লফ্রেন্ড নিয়ে নিজের দুনিয়ায়। সাহেদ শফিক অফিস, নিজের অন্যান্য কাজ সামলে মাকে সেই ভাবে সময় দিতে পারছে না। এভাবে সবার থেকে দূরত্ব মায়ের মনকে অভিমানী করে তোলে। এখানে আমার অভিনীত ‘অনু’ চরিত্রটির ভেতরে সংসার জীবনের ব্যস্ত নারীর ছায়া আছে।

সম্প্রতি আপনার অভিনীত ‘গোর’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
ভালোই। এটি মুক্তি পেয়েছে বেশিদিন হয়নি। দর্শকরা এখনও সিনেমাটি দেখছেন। অনেকেই এটি দেখে তাদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। সব সময় ভালো গল্পের সিনেমায় তৃপ্তি খুঁজে পাই। এটি দারুণ গল্পপ্রধান একটি ছবি। একজন গোরখোদকের জীবনকাহিনি নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। অভিনয় জীবনে এই প্রথম দুই ভাষায় এক ছবিতে অভিনয় করেছি। বেশ অন্য রকমের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুটিং করেছিলাম। কারণ, এটি একই সঙ্গে দুটি সিনেমা করার মতো। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা মাথায় রেখেই সাবটাইটেল বা ডাবিং নয়, সরাসরি ইংরেজি ও বাংলা- একই সঙ্গে দুই ভাষায় অভিনয় করেছেন কলাকুশলীরা। এর আগে আমাদের দেশে কোনো ছবি এভাবে মুক্তি পায়নি। করোনার এই সময়ে এমন ছবি মুক্তিতে ঝুঁকি থেকে যায়। তবুও আমরা প্রত্যাশা করছি দর্শকরা ভালো ছবি দেখবেন।

এই সময়ে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
সঞ্জিত সরকারের ‘চিটিং মাস্টার’, আল হাজেনের ‘মধুমতি’, মুসাফির রনির ‘তোলপাড়’সহ আরও একটি ধারাবাহিকে কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। সরকারি অনুদানের ছবি ‘১৯৭১ :সেই সব দিন’ ছবির কাজ শুরু করেছি। এটি পরিচালনা করেছেন হূদি হক।
কোন ধরনের কাজ আপনাকে বেশি টানে?
নিরীক্ষাধর্মী কাজ করতে চাই; কিন্তু সব সময় তা হয়ে ওঠে না। চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার অনেক সময়ই মিল হয় না। অভিনয়ে নিজেকে ভাঙতে চাইলেও সুযোগ কতটুকু থাকে সেটাই বড় বিষয়। গল্প, চরিত্র, নাটক বা চলচ্চিত্র নির্মাণ বাজেটের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তারপরও যতটুকু সুযোগ থাকে সব সময়ই তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।








Leave a reply