তিন দিনের ট্যুরে মৌলভিবাজারের হামহাম, কালাপাহাড়, মাধবকুন্ড লেক ও হাকালুকি হাওড় ভ্রমন

|

প্রতিবছর বর্ষাকালে অন্তত তিনবার পাহাড়+ঝর্না ভ্রমনে যাওয়ার চেষ্টা করি। এবছরের প্রথম পাহাড় ভ্রমনটা বান্দরবানের লংলাক ও লিক্ষং দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলাম। ডেট হিসেবে আগষ্টের ১৮-২০ কে বেছে নিলাম। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই প্ল্যান করা শুরু করি। প্রায় ১২ জনের বেশি সদস্য বান্দরবান ভ্রমনের জন্য তৈরি হয়ে আছি। কিন্তু ঝর্নায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় শেষ মুহূর্তে বান্দরবান ট্যুরটাকে একমাস পিছিয়ে দিয়ে সেইম ডেটে হামহাম, কালাপাহাড়, মাধবকুন্ড ও হাকালুকি হাওড় যাওয়ার সিব্ধান্ত নিলাম। যেহেতু বান্দরবান যাওয়া হচ্ছে না তাই ১২ জনের গ্রুপের মাত্র ৪ জন মৌলভিবাজার যাওয়ার জন্য রাজী হলো। যাওয়ার তিন দিন পূর্বে ৫৭০ টাকা করে হানিফ বাসের টিকিট কাটলাম। রাত্র এক টার বাস দুইটার পর কাউন্টারে আসল। ভোর ৭টা বাজল শ্রীমঙ্গল পৌছতে। লন্ডন রেষ্টুরেন্টে ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে সিএনজি খুজতে বের হলাম। মাধবপুর লেক, হামহাম ঘুরিয়ে কুলাউড়া নামিয়ে দেয়ার চুক্তিতে সারাদিনের জন্য ১৭০০ টাকায় সিএনজি রিজার্ভ নিলাম। যেহেতু আগে লাউয়াছড়া যাওয়া হয়েছে তাই এই স্পটটা বাদ দিলাম। তবে যারা লাউয়াছড়া ঘুরেননি তারা এই স্পটটাও লিষ্টে রাখতে পারেন। মোটামুটি ট্রেকিং করতে পারলে একদিনে তিনটা স্পট খুব সুন্দর ভাবে কাভার করা সম্ভব। প্রথমে চলে গেলাম মাধবপুর লেক। চা শ্রমিকদের আন্দোলনের কারনে লেকের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হলো না। সময় নষ্ট না করে চলে গেলাম হাম হামের উদ্দেশ্যে। মাধবপুর লেক হতে প্রায় ১ ঘন্টা লাগল কলাবন পাড়ায় পৌছতে। কলাবন পাড়া নেমে প্রথমেই ১৩০ টাকার প্যাকেজে দুপুরের জন্য ভাত, মুরগী, ডাল, আলুভর্তা ও চা পাতা ভর্তা অর্ডার করে নিলাম। যে হোটেল খাবার অর্ডার করলাম সেখানেই ব্যাগ রেখে ৪০০ টাকায় গাইড নিয়ে হাম হামের জন্য রওনা দিলাম। আমাদের গাইডের নাম ছিল মেঘু। শেষ বার পাহাড়ে গিয়েছিলাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের। প্রায় ১০ মাস পর আবার পাহাড়ে হাটছি। বছরের প্রথম পাহাড় ভ্রমন তাই মনের ভিতর অন্য রকমের এক ভাল লাগা কাজ করছিল। পাহাড় গুলো খুব একটা উচু না হওয়ায় ট্রেকিং এ তেমন কষ্টও হচ্ছিল না। এই রুটের আরেকটা ভাল দিক হচ্ছে প্রতিবার পাহাড়ে উঠার পর কিছুটা সমতল পথ পাওয়া যায়। এরকম না যে, আপনি শুধু পাহাড়ে উঠবেন আর নামবেন। ফলে পা দুটো পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছিল। চার জন মিলে গল্প করতে করতে ধীরে সুস্থে হেটে যাচ্ছিলাম। প্রায় ৭/৮ টা ছোট ও মাঝারি পাহাড় পার হওয়ার পর প্রায় ৭০০-৮০০ ফিটের একটা ঢালের সামনে এসে দাড়ালাম। এই ঢালটাই পুরো ট্রেকের সবচেয়ে কঠিন অংশ। ২০১৪ সালে যখন বন্ধুদের সাথে হাম হাম গিয়েছিলাম তখন এই ঢালটা নামতে ভালই কষ্ট করতে হয়েছিল। সেবার বেশ কয়েকটা আছাড় খেয়ে, গাইডের কোলে, পিঠে চড়ে ঢালটা পার হয়েছিলাম। কিন্তু এবার আর এতটা কষ্ট করতে হয়নি। এই রুটে ঝর্না প্রেমিদের রেগুলার যাতায়াতের কারনে নামার রাস্তাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ঢাল থেকে নেমেই ঝিরিপথ পেয়ে গেলাম। ঝিরি ধরে প্রায় ১৫ মিনিট হাটার পর হাম হামে সামনে পৌছলাম। পুরো দেড় ঘন্টা হাটতে হয়েছিল এই সুন্দরীকে দেখার জন্য। গত কয়েকদিনে খুব একটা বৃষ্টি না হওয়ায় ঝর্নায় পানি কম ছিল। প্রায় দেড় ঘন্টার মত ঝর্নায় গোসল করে ফিরতি পথে ট্রেকিং শুরু করলাম। আসার সময় প্রায় পুরো রাস্তাটাই দৌড়ালাম। এক ঘন্টা লেগেছিল কলাবন পাড়া ফিরে আসতে। যাওয়া আসা মিলে ৪ ঘন্টায় হাম হাম ঘুরে এসে হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল আমাদের। কলাবন পাড়ায় গোসল সেরে খাবার খেয়ে নিলাম। খাবারের মান খুব একটা ভাল ছিল না। কলাবন পাড়া থেকে সিএনজিতে প্রায় দেড় ঘন্টায় কুলাউড়া পৌছলাম। এবার হোটেল খুজার পালা। আগমী দুই রাত এখানে থেকেই বাকি স্পট গুলো ঘুরে দেখব। প্রথমেই কুলাউড়ার সবচেয়ে ভাল দুটো হোটেল হলিডে এক্সপ্রেস ও হোটেল হানিফ এ রুম খুজলাম। বাজেটের থেকে রুম ভাড়া বেশি হওয়ায় ষ্টেশন রোডে ঢুকলাম। ষ্টেশন রোডের প্রথম হোটেলটার নাম হচ্ছে হোটেল নাজ। চারজন থাকার জন্য এটাচ বাথ সহ একটাই রুম আছে। ভাড়া চাইল দিন প্রতি ৮০০ করে। আমরা ৬৫০ টাকা করে দুই রাতের জন্য মোট ১৩০০ টাকায় রুম নিলাম। সন্ধা হতে এখনও দুই ঘন্টা তাই সবাই কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যার পর চলে গেলাম কুলাউড়া রেলষ্টেশনে। রাতে খাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো সময়টা আমরা ষ্টেশনেই কাটিয়েছিলাম। চা খেতে খেতে ষ্টেশনে আড্ডা দেয়াটা ছিল ট্যুরের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। হোটেল পাকশিতে রাতের খাবার খেয়েছিলাম। খাবারের মান খুব একটা ভাল ছিল না। যেহেতু পরের দিন কালাপাহাড়ের উদ্দেশ্যে খুব ভোরে বের হবো তাই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল ৫.৩০ এ ঘুম থেকে উঠে ৬.৩০ এ বের হলাম। কুলাউড়া বাজারে হোটেল ইষ্টানে সকালের নাস্তা করে ২০০ টাকয় সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে আসগরাবাদ চা বাগানের জন্য রওনা হলাম। কেউ যদি ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে চায় তাহলে প্রথমে রবির বাজার আসতে হবে। তারপর সেখান থেকে আবার সিএনজি নিয়ে আসগরাবাদ যেতে হবে। এখান থেকেই মূলত হাটাপথ শুরু। প্রায় একঘন্টার মত হেটে প্রথমে যেতে হবে বেগুনছড়াপুঞ্জীতে। দুইজন স্থানীয় লোক পান আনতে বেগুনছড়া পুঞ্জী যাচ্ছিল। তাদের সাথে গল্প করতে করতে আমরা পৌছে যাই বেগুনছড়ায়। বেগুনছড়াপুঞ্জী মূলত একটি খাশিয়া গ্রাম। প্রায় ৩০-৪০টি পরিবার বসবাস করে এখানে। দুর্গম পাহাড়ে তাদের বসবাস হলেও তাদের জীবন যাত্রার মান অন্য পাহাড়িদের তুলনায় যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ঘর গুলো খুব সুন্দর সাজানো গোছানো। এখান থেকে গাইড নিয়েই কালাপাহাড়ের মূল ট্রেকিং শুরু। আমরা পাড়ায় ঢুকে গাইড নেয়ার জন্য পাড়ার মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলাম। আমাদের সাথে আসগরাবাদ থেকে হেটে আসা একজন স্থানীয় লোক গাইড হিসেবে কালাপাহাড় যেতে রাজী হলো। ৫০০ টাকায় তাকে গাইড হিসেবে নিয়ে কালাপাহাড়ের জন্য হাটা শুরু করলাম। কালাপাহাড় নিয়ে যত লেখালেখি পড়েছি তার মধ্যে সব লেখাতেই জোকের কথা স্পেশাল ভাবে বলা হয়েছে। পাহাড়ে উঠার শুরেু থেকেই জোকের উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম। কালাপাহাড়ের চূড়ায় যাওয়ার বেশ কয়েকটা রুট আছে। গাইড আমাদের এমন এক রুট দিয়ে নিয়ে গেল যেটাতে মানুষ খুব কম যায়। প্রায় দুই ঘন্টার মত হেটে আমরা চূড়ায় পৌছাই। চূড়ায় পৌছার পর পাঁচ মিনিটও দাড়াতে পারিনি জোঁকের জন্য। চূড়ায় যতক্ষন ছিলাম সবাই সবার শরীরের জোক ছাড়ানোতেই ব্যাস্ত ছিলাম। খুব দ্রুত নেমে আসি চূড়া থেকে। কালাপাহাড় ঘুরার পারফেক্ট সময় শীতকাল। বর্ষাকালেও যাওয়া যায় তবে বৃষ্টি হলে জোক উড়ে উড়ে আপনার উপর পড়বে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। চূড়া থেকে একটু নিচে একটা ভাঙ্গাচূড়া ঘরে আমরা বিশ্রাম নিয়ে আবার নামতে শুরু করি। নামার সময় খুব একটা সময় লাগেনি। বেগুনছড়াপুঞ্জীতে পৌছে কিছুক্ষন ‍বিশ্রাম নিয়ে আসগরাবাদের জন্য রওনা দেই। একেবারে মাথার উপর সূর্য নিয়ে বেগুনছড়া থেকে আসগরাবাদ পৌছার এক ঘন্টা সময় ছিল পুরো ট্যুরের অন্যতম বাজে সময়। আসগরাবাদ থেকে সিএনজি নিয়ে দুইটার মধ্যে আমরা কুলাউড়া ফিরে আসি। দুপুরের খাবারটা আমরা হোটেল গোল্ডেন ভিউ তে খেয়েছিলাম। এটাই সম্ভবত পুরো কুলাউড়ার সবচেয়ে ভালমানের খাবার হোটেল। হাস, গরু, ভর্তা, ডাল দিয়ে ‍দুপুরের খাবার খাই। হোটেলে গোসল করে প্রায় ২ ঘন্টার মত ঘুমিয়ে বিকেলে কুলাউড়া ষ্টেশনে যাই। কুলাউড়া ষ্টেশনটা ছিল আমাদের জন্য বাড়তি একটা স্পট। চাইলে শুধু এই ষ্টেশনটা ঘুরার জন্যও কেউ কুলাউড়া যেতে পারেন। ষ্টেশনের ভিতরের ফুটওভার ব্রীজ ও প্ল্যাটফর্মের চায়ের দোকেনে আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছি। গল্পের ফাকে চা, চানাচুর, বিস্কুট সহ অনেক কিছুই চাবিয়েছি। দ্বিতীয় দিন বিকেলে যখন ষ্টেশনে পৌছলাম তখন থেকেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। ষ্টেশনের ফুটওভার ব্রীজে দাড়িয়ে বৃষ্টি বিলাস মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জীবনের সুখ স্মৃতি হয়ে থাকবে। রাতের খাবারটাও আমরা হোটেল গোল্ডেন ভিউ তে খেলাম। পরের দিন সকালে ৭ টায় বের হলাম মাধবকুন্ড ঝর্নার উদ্দেশ্যে। মৌলভিবাজরের অন্যমত সুন্দর ভ্রমন স্পট এই মাধবকুন্ড ইকোপার্ক। কুলাউড়া থেকে জনপ্রতি ৭০ টাকায় আমরা প্রথমে বড়লেখা পৌছলাম। যদিও মাধবকুন্ড যাওয়ার জন্য বড়লেখার তিন কিলো আগে কাঁঠালতলি বাজারে নামতে হয়। কিন্তু নাস্তা করার জন্য আমরা বড়লেখা গিয়েছিলাম। নাস্তা করে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে সিএনজি ভাড়া করে আমরা মাধবকুন্ড পৌছাই। ইকোপার্কের গেইট খুলার অপেক্ষায় প্রায় ১৫ মিনিট দাড়িয়ে ছিলাম। ইকোপার্কের গেটের কাছেই আছে একটি ডাকবাংলো। যদি জানতাম এখানেও থাকার ব্যাবস্থা আছে তাহলে হয়ত কুলাউড়া দুই রাত না থেকে একটা রাত এখানে থাকতাম। ৮.৩০ এ গেইট খুললে ২০ টাকা করে টিকিট কেটে আমরা ইকো পার্কের ভিতরে ঢুকি। প্রায় ২০ মিনিট হাটার পর পৌছাই মাধবকুন্ড ঝর্নায়। ভালই উচু ঝর্না। ঝর্নায় যাওয়ার রাস্তাটা সহজ হওয়ায় আমাদের কাছে এই ঝর্নার কদর কম। যদি ঝর্নাটা বান্দরবানের গহীনে হতো তাহলে পাহাড় প্রেমিরা এই ঝর্না দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেক করতেও দ্বিধাবোধ করতো না। ঝর্না উপর সূর্য থাকায় ছবি তুলতে কিছুটা কষ্ট করতে হয়েছিল আমাদের। এই ঝর্না ঘুরার পারফেক্ট সময় বিকেল বেলা যখন সূর্য ঝর্নার বিপরিত পাশে থাকে। এই ঝর্নায় গোসল করতে নেমে বিভিন্ন সময় প্রায় ১০ জনের বেশি ট্রাভেলার মারা গেছে। তাই ঝর্নার পানিতে গোসল করা নিষেধ। ঝর্নায় বেশ কিছু সময় কাটিয়ে ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পড়ি। ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে ঝর্নার সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। এরপর মাধবকুন্ড ঝর্না থেকে ১০ মিনিট হেটে চলে যাই পরিকুন্ড ঝর্নাতে। খুব বেশি বৃষ্টি না হলে এই ঝর্নায় খুব একটা পানি পাওয়া যায় না। পরিকুন্ড ঘুরে ইকোপার্কের গেট থেকে সিএনজিতে করে চলে আসি কুলাউড়া। হোটেলে রুম ছেড়ে দিয়ে ব্যাগ নিয়ে বের হই হাকালূকি হাওড় ঘুরতে। কুলাউড়া থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে সিএনজি নিয়ে প্রথমে যাই ভাটরা বাজার। তারপর ২০০ টাকা দিয়ে সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে যাই ঘিলাচর নামক জায়গায়। হাকালুকি হাওড় অনেক জায়গা থেকেই ঘুরা যায়। বেশিরভাগ মানুষ এই ঘিলাচর থেকেই নৌকা ভাড়া করে হাওড় ঘুরার জন্য। ঘাট থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত যাওয়া আসার জন্য ট্রলার ভাড়া করি। বর্ষার হাওড়ের সৌন্দর্য লিখে বুঝানো যাবে না। প্রায় ৩০ মিনিট ট্রলার চলার পর ওয়াচ টাওয়ারে পৌছাই। লাইফ জ্যাকেট না থাকায় পানিতে নামা হয় নি। তবে ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে হাওড়ে যে রূপ দেখেছি তা সত্যিই অসাধারন। ওয়াচ টাওয়ারে উপরে আধা ঘন্টা সময় কাটিয়ে আমরা ট্রলারে করে ঘিলাচর চলে আসি। এখানেই আমাদের ট্যুর শেষ। এবার ফিরার পালা। ১৫০ টাকা দিয়ে সিএনজি রিজার্ভ করে আমরা প্রথমে যাই মাইজগাঁও রেলষ্টেশনে। ঢাকাগামী রেলের টিকিট না পেয়ে জনপ্রতি ২০ টাকা খরচ করে আমরা চলে যাই ফেঞ্চুগঞ্জে। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে লোকাল বাসে ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যাই মৌলভিবাজার। মৌলভিবাজার গিয়ে ৫৭০ টাকা ভাড়ায় হানিফ বাসে করে ঢাকা ব্যাক করি। বিকেল ৬.২০ এ বাস ছাড়ে এবং রাত ১১.২০ এ আমরা ঢাকা পৌছাই।

তিন দিনের ট্যুরে আমাদের মোট খরচ হয়েছিল ৪৩০০ টাকা জনপ্রতি। খাবারের হিসেব ছাড়া বাকি সব খরচের হিসাব পোষ্টে দেয়া আছে। খাবারের খরচটা নিজের উপর নির্ভর করে তবে বর্তমানে খাবারের জন্য দৈনিক ৩৫০-৪৫০ টাকা বাজেট ধরে ট্যুর প্ল্যান করা যেতে পারে।

হাম হাম, কালাপাহাড়, মাধবকুন্ড ইকোপার্ক সহ দেশের প্রতিটা ঘুরার জায়গাই টুরিষ্ট স্পট কম ময়লার ডাস্টবিন বেশি মনে হয়। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে আর কিছু দিন পর পুরো দেশটাই একটা ডাস্টবিনে পরিনত হবে।








Leave a reply