কতটুকু পানি পান করবেন দিনে ?

|

পানির কাজ কী?
শরীরের ৬০ ভাগই পানি। পানির কাজ হলো, হজমে সাহায্য করা, কোষের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা, ত্বক তরতাজা রাখা, মূত্রের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়া, লিভার, কিডনি, ফুসফুসের কাজে সাহায্য করা, শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা, ওজন কমাতে সাহায্য করা, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

কোন বয়সে কতটা পানি পান?
১. শিশুদের ওজন ৩ কেজি থেকে ১০ কেজির মধ্যে হলে, প্রতি কেজি পিছু ১০০ এমএল পানি পান করাতে হবে। অর্থাৎ শিশুর ওজন ৭ কেজি হলে সারাদিনে ৭০০ মিলি পানি পান করতে হবে।

২. ১১ কেজি থেকে ২০ কেজি ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে সারাদিন পানির প্রয়োজন ১০০০ মিলি + ৫০ মিলি (প্রতি কেজি ওজন পিছু)। অর্থাৎ শিশুর ওজন ১০ কেজির বেশি হলে তাকে ১ লিটার পানি পান করাতেই হবে। সেইসঙ্গে দশের উপরে যত কেজি ওজন বেশি হবে, তার সঙ্গে ৫০ এমএল পানি গুণ করতে হবে। অর্থাৎ ১৬ কেজির ওজনের শিশুর পানির দরকার ১০০০ মিলি + ৫০x৬ =১৩০০ মিলি।
৩. ২০ কেজি ওজনের বেশি শিশুদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা হবে, ১৫০০ মিলি + ২০ মিলি/প্রতি কেজি (২০ কেজির ওপরে যত কেজি হবে)। অর্থাৎ ২৫ কেজি ওজনের শিশুর পানির দরকার ১৫০০ মিলি + ২০x৫= ১৬০০ মিলি।
৪. প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ : সারাদিনে ৩ লিটার বা ১৪ গ্লাস পানি যথেষ্ট। গরম বেশি পড়লে সর্বাধিক ৩.৫ লিটার।
৫. প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা : সারাদিনে ২.২ লিটার পানি পান করলে চলবে অর্থাৎ ১০ গ্লাস। গরম বেশি থাকলে সর্বাধিক ২.৭ লিটার।
অনেকসময় এই নিয়ম মেনে পানি পান করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজে বের হন বা বাইরে ঘুরতে হয়, তাদের পক্ষে এই পদ্ধতিতে পানি পান করা অনেকসময়ই অসম্ভব হয়ে পরে। তাদের লক্ষ্য হবে, প্রস্রাবের রং যেন পরিষ্কার হয়। সোজা কথায় পানির পিপাসা পেলেই পানি পান করে নিন।

কখন মেপে পানি খাবেন?
হার্টের রোগ থাকলে : হার্টের রোগ বিশেষত হার্ট ফেলিওর-এর সমস্যা থাকলে, হার্ট ঠিকমতো পাম্প করতে পারবে না। সর্বাধিক ১.৫ লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে পারেন। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করুন।
কিডনির সমস্যা থাকলে : অর্থাৎ কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গেলে, পানি না বেরিয়ে শরীর জমতে থাকবে।
সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে : রক্তে সোডিয়াম কম মানে, আপনার শরীরে পানির মাত্রা বেশি হয়ে গেছে।

কীভাবে বুঝবেন যে পানি বেশি খাওয়া হচ্ছে?
পা, চোখের নীচের অংশ ফুলে যাবে, ওজন বেড়ে যাবে, শ্বাসকষ্ট শুরু হবে ইত্যাদি।

কখন স্বাভাবিকের থেকে বেশি পানি পান করবেন?
বমি হলে, ডায়ারিয়া হলে, অস্বাভাবিক গরম পড়লে, যাঁদের দৈহিক কাজ বেশি বা রোদে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় তাদের ক্ষেত্রে শুধু পানি না খেয়ে, খাবার স্যালাইন খাওয়াটা বেশি স্বাস্থ্যকর। মনে রাখবেন জলীয় পদার্থ মানেই পানি নয়। তাই তেষ্টা মেটাতে কোল্ড ড্রিঙ্ক বা সোডা না খেয়ে পানি বা খাবার স্যালাইন খান। একান্তই না পেলে ফ্রুট জ্যুস চলতে পারে।








Leave a reply