যুদ্ধের ময়দানে বিয়ে করলেন ইউক্রেনের দুই সৈন্য

|

ইউক্রেন যুদ্ধ হাজারও মানুষের প্রাণ কাড়ছে, ঘরবাড়ি ছেড়ে শরণার্থীর জীবন বেছে নিচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। রাশিয়ার আগ্রাসনে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে এখন চলছে ধ্বংসযজ্ঞ আর প্রাণহানি। এমন ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে দাঁড়িয়ে সম্মুখসারিতে লড়াইরত ইউক্রেনের এক দম্পতির বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনা ইন্টারনেট দুনিয়ায় জয় করেছে নেটিজেনদের মন।

যুদ্ধের ময়দানে সামরিক সাজে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র গোলযোগের মাঝে এক দম্পতি পরিণয়ের সম্পর্কে বাঁধা পড়ছেন। তাদের পরনে সামরিক ইউনিফর্ম, চারপাশে দাঁড়িয়েছেন সহযোদ্ধা ইউক্রেনীয় সৈন্যরা।

লেসা এবং ভ্যালেরি নামের এই নবদম্পতি ইউক্রেনের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠের এক এলাকায় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা। ভিডিওতে লেসাকে ফুলের তোড়া হাতে দেখা যায়। উভয়ের হাতে রয়েছে শ্যাম্পেনের গ্লাস।

চারদিক থেকে লেসা এবং ভ্যালেরিকে ঘিরে সহযোদ্ধা ইউক্রেনীয় সৈন্যরা স্থানীয় একটি গান পরিবেশন করেন। এ সময় এক সৈন্যকে ইউক্রেনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রে সুর চড়াতে দেখা যায়। মাথায় সামরিক বাহিনীর হেলমেটের পরিবর্তে সাদা রঙের ঘোমটা পরে বর ভ্যালেরির হাত ধরে আছেন কনে লেসা।

রণক্ষেত্রে এই দম্পতির বিয়ের ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন জার্মান দৈনিক বিল্ডের প্রতিনিধি পল রনঝেইমার। পরে অন্যান্য আরও অনেক গণমাধ্যমে সেই ভিডিওটি প্রকাশিত হয়; যা ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। ইন্টারনেটে নেটিজেনদের মন জয় করেছে এই ভিডিও, অনেকেই কমেন্টে এই সামরিক দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর ১৩তম দিন চলছে। বর্তমানে দেশটির রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ, মারিউপোল এবং সুমি শহরে যুদ্ধের তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অনুরোধে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে আবারও মানবিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়।

ন্টারনেটে নেটিজেনদের মন জয় করেছে এই দম্পতির বিয়ের ভিডিও, অনেকেই কমেন্টে এই সামরিক দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন
সোমবারও ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহর দখলে রুশ সৈন্যদের হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এই শহরের অনেক বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র পালিয়ে গেলেও এখনও অনেকে ধ্বংসস্তুপ অথবা খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় ভিন্নিৎসিয়া বিমানবন্দর ধ্বংস হয়ে গেছে।জাতিসংঘের তথ্য বলছে, রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার ইউক্রেনের ১৫ লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আর এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অত্যন্ত কম সময়ে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের দেশত্যাগের ঘটনা।








Leave a reply