প্লাস্টিকের বক্স, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে খাবার মানেই ভয়ঙ্কর ক্ষতি!

|

বাড়িতে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর সময় তাদের টিফিন দিতে গিয়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় মায়েদের। এক তো, ‘এটা খাবো না, সেটা খাবো না, তার উপর সুন্দর, রং চঙে, বাহারি টিফিন বক্স ছাড়া টিফিন নিতেই চায় না তারা। কিন্তু বাহারি টিফিন বক্সের চেয়েও খাবার দীর্ঘ ক্ষণ গরম আর জীবানু মুক্ত রাখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মায়েদের কাছে। আর সেটাই তো স্বাভাবিক! তাই প্লাস্টিকের বাহারি টিফিন বক্সে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে ভালো করে খাবার মুড়ে তবেই শিশুকে খাবার দেন মায়েরা। এতে খাবার দীর্ঘ ক্ষণ গরমও থাকছে আর প্লাস্টিকের টিফিন বক্সের ক্ষতিকর রাসায়নিকের হাত থেকেও শিশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু তাতেও কি আপনার শিশু সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের টিফিন বাক্সে বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে শিশুদের টিফিন দিলেই সর্বনাশ অনিবার্য! দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ার ফলে শিশুদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ, এই পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ার ফলে পরিমাণে সামান্য হলেও খাবারের সঙ্গে মেশা ক্ষতিকর রাসায়নিক একটু একটু করে জমা হতে থাকে শিশুদের শরীরে।

কীভাবে প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স বা বা প্লাস্টিকের তৈরি কোনো পাত্রে রাখা খাবার শিশুদের ক্ষতি করে?
প্লাস্টিকের টিফিন বক্সে বা প্লাস্টিকের তৈরি কোনো পাত্রে গরম খাবার রাখলে ওই গরম খাবারের সংস্পর্শে এসে প্লাস্টিকের পাত্র থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘জেনোস্ট্রেজেন’ (xenoestrogens) নিঃসৃত হয়। পলিথিন ফয়েলে গরম খাবার মুড়ে রাখলেও একইভাবে খাবারে মেশে ক্ষতিকর ‘জেনোস্ট্রেজেন’। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘জেনোস্ট্রেজেন’এর প্রভাবে শিশুদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

খাবার দীর্ঘ ক্ষণ গরম রাখতে সেটা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে রাখা হয়। কিন্তু এ কথা অনেকেই জানেন না, গরম খাবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সংস্পর্শে আসার ফলে খাবারে মিশতে থাকে অ্যালুমিনিয়াম। অ্যালুমিনিয়াম মেশানো খাবার শরীরে ঢুকলে তা জিঙ্ককে প্রতিস্থাপন করে। এই জিঙ্ক ইনসুলিন কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। অ্যালুমিনিয়াম মেশানো খাবার খেলে, শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য বিগড়ে যেতে পারে। ফলে স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

তাই এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুদের স্টিলের টিফিন বক্সে খাবার দিন। পারলে খাবার কাপড়ে মুড়ে দিন। এই পদ্ধতিতেও খাবার দীর্ঘ ক্ষণ গরম থাকবে। আর সুরক্ষিত থাকবে শিশুর স্বাস্থ্যও।








Leave a reply