আমন্ড বা কাঠবাদামের গুনাগুন আর কিভাবে খেলে সর্বোচ্চ হেলথ বেনিফিট পাবেন

|

আমন্ড বা কাঠবাদাম এর নিউট্রিয়েন্ট প্রোফাইল এটাকে সুপার ফুড এর ক্যাটাগরি তে ফেলা যায়। আমন্ড ভিটামিন ই, ডায়েট্রি ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আর প্রোটিনে সমৃদ্ধ খাবার। আমন্ডের প্রোটিন অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে। আমন্ড ম্যাঙ্গানিজ এরও সমৃদ্ধ উৎস, যা হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে আর রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। যাদের ব্লাড প্রেসারের সমস্যা আছে তাদের তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পাশাপাশি নার্ভ আর মাসল ফাংশন এ সাহায্য করে। যারা হেলদি ডায়েট মেইন্টেন করে তারা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে আমন্ড খেয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ আমন্ড খাবার সঠিক নিয়ম জানেনা।

আমন্ড খাবার সঠিক নিয়ম হল সারারাত আমন্ড পানিতে ভিজিয়ে রেখে, পরে উপরের বাদামী ছোকা ছাড়িয়ে তা খাওয়া। শুকনা আমন্ড আর ভিজিয়ে খোসা ছাড়ানো আমন্ডে পার্থক্য কি?

সারারাত পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন খোসা ছাড়িয়ে আমন্ড খাওয়া হল স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি। বাদামী খোসা ছাড়ানো আমন্ড বেটার এই কারণে কারণ, বাদামী খোসাতে ট্যানিন থাকে যা শরিরকে আমন্ডের পুষ্টিগুন শোষন করতে বাধা দেয়। সারারাত আমন্ড ভিজিয়ে রাখলে আমন্ড থেকে সব নিউট্রিশন সঠিক পরিমানে পাওয়া যায়। ভিজিয়ে রাখলে আমন্ডের এনজাইম গুলো সক্রিয় হয়, সক্রিয় এনজাইম গুলো হজমে সাহায্য করবে।
সারা রাত ভেজানোর পর বাদামী খোসা ছাড়ানো আমন্ডের উপকারীতা।

১. ভেজানো আমন্ড হজমে সাহায্য করে। সারা রাত ভেজানো থাকলে আমন্ডের এনজাইম গুলো এক্টিভেট হয় যা হজমে সাহায্য করে।

২. ওজন কমাতে সাহায্য করে– আমন্ডে থাকা মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট আপনার ক্ষুধা কমায় এবং পেট ভরা রাখে। স্ন্যাকসে আমন্ড খেলে তা পরবর্তী বেলা তে আপনার অতিরিক্ত খাবার খাওয়া নিয়ন্ত্রন করবে এবং আপনি সহজে ওজন কমাতে পারবেন।

৩. আমন্ড আপনার হৃদপিন্ড কে স্বাস্থ্যকর রাখে। আমন্ড আপনার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (Low Density Lipoprotein) এর পরিমান কমায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল (High Density Lipoprotein) এর পরিমান বাড়ায়।

৪. আমন্ড এন্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। আমন্ডে থাকা ভিটামিন ই আপনার এজিং প্রসেস স্লো করবে, আর আমন্ড ত্বকের জন্যেও ভাল।

৫. ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে– ভেজানো আমন্ডে থাকা ভিটামিন B-17 ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার জন্য জরুরি একটা ভিটামিন।

৬. আমন্ডে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড টিউমারের বৃদ্ধি কমায়।

৭. আমন্ড রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমায় এবং নিয়ন্ত্রন করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও নিয়ন্ত্রণ করে।

৮. ভেজানো আমন্ডে থাকা ফলিক এসিড, জন্মগত ত্রুটি কমায়।

এখন এটা তো গেল ছোকা ছাড়ানো আমন্ডের গুনাগুন। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমন্ডের ছোকা কি হেলদি না? বা ফাইবার না?

আমন্ড না ভিজালে আপনি কিছু নিউট্রীশন মিস করবেন। এখন আপনি যদি আমন্ডের খোসা না ছাড়ান তবে আমন্ডের খোসাতে থাকা “ফাইটেট” হজমে বাধা দিতে পারে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, “ফাইটেট” আয়রনন আর জিঙ্কের সাথে মিশে গিয়ে, আমাদের রক্তে মিশতে বাধা দেয়।

আমন্ডের খোসার ও উপকারীতা আছে। আমরা আমন্ডের ছোকা হজম করতে সক্ষম এবং সেটা থেকে পুষ্টিগুন ও পেতে পারি। আমন্ডের ছোকা ফাইবার, তা হজম হয়না। সেটা আমাদের কোলনে গিয়ে আমাদের শরিরের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার খাবার জোগান দেয় এবং ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি সাধন করে। আমন্ডের স্কিনে ভিটামিন ই আর এন্টিঅক্সিডেন্ট ও আছে।

সারমর্মে এসে একটু সব কেমন কনফিউজিং মনে হচ্ছে তো? সব পরিষ্কার করে দেই। আমন্ডের থেকে সর্বোচ্চ বেনিফিট পেতে আপনাকে সারারাত, অর্থাৎ ৮-১০ ঘন্টা ভিজিয়ে খেতে হবে। ছোকাতে ফাইটেট থাকে, আপনি ফাইটেট ইনটেক কমানোর জন্য ছোকা ছাড়িয়ে খাবেন। এখন ছোকাতেও তো পুষ্টিগুন কম না। সেক্ষেত্রে আপনি ১৫ টা আমন্ড খেলে ৫ টা খোসা সহ আর ১০ টা খোসা ছাড়া খাবেন। ফাইটেট টা ব্যালান্স হবে। অথবা একদিন খোসা সহ, একদিন খোসা ছাড়া খাবেন। তবে অবশ্যই সারা রাত ভিজিয়ে রেখে খাবেন। আর হ্যা আমন্ড ভেজে খেলে, অনেক পুষ্টিগুন হারাবেন। তাই যতটা পারেন আনপ্রোসেস্ড আর সারা রাত ভিজিয়ে খাবেন।








Leave a reply