দারুচিনি: শুধু স্বাদ ও গন্ধের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের বিচারেও অপরিহার্য

|

দারুচিনির গন্ধ বলতে আপনি কী বোঝেন? নরওয়ের বাসিন্দাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন তাঁরা নিশ্চয়ই প্রাতঃরাশের পাঁউরুটির কথা বলবেন। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের লোকেরা অবশ্য দারুচিনি বলতে আপেল পাইয়ের কথা বোঝে কিংবা দারুচিনি রোলের কথা অথবা অন্য কোনও ডেজার্টের কথা। ভারতে অবশ্য দারুচিনি বলতে প্রথমেই চায়ের কথা মনে পড়ে।

মনে যে কথাই আসুক না কেন দারুচিনির গন্ধ কিন্তু সর্বদাই আপনার ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে তুলতে ব্যস্ত। এর স্বাদটাও তো বেশ অদ্ভুত – মিষ্টি আবার কখনও কখনও মসলাদার।এখানেই শেষ নয়। আমাদের দিলখুশ করা ছাড়াও দারুচিনি আমাদের আরও নানান উপকারে কাজে লাগে। তাই চার হাজার বছর আগেও চিন দেশে দারুচিনি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হত।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি করে দারুচিনি ব্যবহার করা উচিত।

রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণ করে: রক্তশর্করা বা ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য দারুচিনি বেশ উপকারী এবং আপনার শরীরে টাইপ টু ডায়বেটিস প্রতিরোধ করে। সকালের চায়ের কাপে কয়েকটি দারুচিনি ছড়িয়ে দিতে পারলে তা ভীষণ কাজ দেয়। আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলো চাঙ্গা করতে সাহায্য করে তার জেরে শরীরের কোষে ইনসুলিনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ডায়বেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

ডায়বেটিস প্রতিরোধ করা মানেই আপনার হার্টের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। আবার ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে থাকা মানে আপনার হরমোন স্বাভাবিক কাজ করবে এবং আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে দেবে না।দারুচিনি সুগার নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ক্লান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমিয়ে দেয়।

রোগ নির্মূল: সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা হজমের সমস্যার মতো সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে দারুচিনি ভীষণ উপকারী। অনেকেই হয়তো জানেন না যে দারুচিনি স্মৃতিশক্তি সতেজ রাখার ক্ষেত্রেও দারুণ কাজ দেয়। দারুচিনি আলসার প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয়।

আরও বেশি করে সেবন করুন: দারুচিনি দেওয়া চা – একটি টেবিল চামচের চারভাগের একভাগ দারুচিনি ফুটন্ত জলে মেশান। এর পর ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে নাড়তে থাকুন।আমাদের ডায়েটে দারুচিনির ব্যবহার সবসময় উপকারী। আমার পরামর্শ, দিনের শুরুতেই দারুচিনি সেবন করে এর উপকারিতা সঞ্চয় করুন।

আরও কিছু প্রয়োজন?
নিজের চা তৈরি করুন। একটি টি-ব্যাগ (গ্রিন টি হলে সবচেতে ভালো) গরম জলে তিন থেকে চার মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। এর সঙ্গে গরম সয়া দুধ মেশান। সঙ্গে দারুচিনি, লবঙ্গ ও মধু যোগ করুন। এই চা সারাদিন আপনাকে সতেজ রাখবে।

আপনি দারুচিনি স্বাদযুক্ত আপেল বাটারও তৈরি করে নিতে পারেন: দুটি আপেল ধুয়ে ফেলুন, কিন্তু খোসা ছাড়াবেন না। ছোট ছোট টুকরো কেটে নিয়ে আপেলটিকে এক কাপ জলে সিদ্ধ করুন। আপেলটি নরম হলে তা পিষে নিন। এবার এই সিদ্ধ আপেলটি একটি বড় প্যানে ঢেলে তাতে হাফ কাপ চিনি, একটু দারুচিনি ও এক ফোটা গুঁড়ো লবঙ্গ মেশান। হালকা আঁচে রাঁধুন যতক্ষণ না পর্যন্ত মিশ্রণটি বেশ ঘন হয়ে উঠছে। এর পর মিশ্রটি একটি জারে ঢেলে রাখুন এবং পাঁউরুটিতে মাখিয়ে খান।

প্রাতঃরাশে এই ফ্রেঞ্চ টেস্টটি চেখে দেখতে পারেন: কলা ভ্যানিলা, ডিম ও দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর এই ব্যাটারটিতে পাউরুটি চোবান। এর পর কড়াইতে ভাজুন যতক্ষণ না পর্যন্ত দুটি দিক হালকা বাদামী রঙ না হয়ে যাচ্ছে। এরপর দারুচিনি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।ওই ছোট্ট নিরস বাকলটি আপনাকে প্রভূত সাহায্য করবে।








Leave a reply